পাইলস বা অর্শ্ব রোগের ঘরোয়া প্রতিকার ও ডায়েট

  • Home
  • পাইলস বা অর্শ্ব রোগের ঘরোয়া প্রতিকার ও ডায়েট

পাইলস বা অর্শ্ব রোগ একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে গেলে বা সেখানে প্রদাহ তৈরি হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যই এর প্রধান কারণ। সঠিক ডায়েট এবং কিছু ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে এই রোগ থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


পাইলস রোগীদের জন্য কার্যকরী ৫টি ঘরোয়া প্রতিকার

১. ইষদুষ্ণ পানির সেঁক (Sitz Bath): একটি বড় গামলায় হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে ১০-১৫ মিনিট বসে থাকুন। এটি মলদ্বারের রক্তনালীর ফোলা কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে জাদুর মতো কাজ করে। দিনে ২-৩ বার এটি করতে পারেন।

২. অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। মলদ্বারের বাইরে ফোলা অংশে ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল লাগালে জ্বালাপোড়া ও চুলকানি দ্রুত কমে।

৩. বরফ ব্যবহার: ব্যথার জায়গায় বরফ বা কোল্ড প্যাক ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখলে রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং ব্যথা ও ফোলা ভাব হ্রাস পায়।

৪. নারকেল তেল: আক্রান্ত স্থানে নারকেল তেল লাগালে শুষ্কতা দূর হয় এবং মলত্যাগের সময় ঘর্ষণজনিত ব্যথা কমে। এটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধেও সাহায্য করে।

৫. ইসুবগুলের ভুষি: রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানিতে ইসুবগুলের ভুষি মিশিয়ে সাথে সাথে পান করুন। এটি মল নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।


ডায়েট চার্ট: কী খাবেন আর কী খাবেন না?

যা খাবেন:

  • উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: লাল চাল, লাল আটা, ওটস এবং ডাল।
  • সবজি ও ফলমূল: পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শসা, কলা এবং আপেল (খোসা সহ)।
  • পর্যাপ্ত পানি: প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা বাধ্যতামূলক।
  • দই বা প্রোবায়োটিক: এটি হজম শক্তি বাড়াতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

যা বর্জন করবেন:

  • অতিরিক্ত মশলা ও ঝাল: এটি মলদ্বারে জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দেয়।
  • প্রসেসড ফুড: পাস্তা, পিৎজা বা সাদা ময়দার তৈরি খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।
  • রেড মিট: গরু বা খাসির মাংস হজম হতে অনেক সময় নেয়, যা পাইলসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।
  • চা ও কফি: অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে।