জন্ডিস হলে কী খাবেন আর কী খাবেন না?

  • Home
  • জন্ডিস হলে কী খাবেন আর কী খাবেন না?

জন্ডিস লিভারের একটি রোগ, যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই সময় লিভারের ওপর চাপ কমাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। জন্ডিস হলে কী খাবেন এবং কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:


জন্ডিস হলে যা খাবেন (উপকারী খাবার)

১. প্রচুর পানি ও তরল খাবার: শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে প্রচুর পানি পান করুন। ডাবের পানি, আখের রস (পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি) এবং ফলের রস লিভারকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

২. কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার: ভাত, রুটি বা আলু সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি জোগায়। তবে খেয়াল রাখবেন এতে যেন অতিরিক্ত তেল বা ঘি না থাকে।

৩. শাকসবজি ও ফলমূল: পেঁপে, লাউ, ঝিঙা, পটল এবং গাজর জন্ডিস রোগীদের জন্য আদর্শ। ফলের মধ্যে কমলা, মাল্টা, তরমুজ এবং আনারস লিভারের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

৪. মুগ ডাল ও পাতলা ঝোল: সহজপাচ্য প্রোটিন হিসেবে পাতলা মুগ ডাল বা মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল (অল্প মশলায়) খাওয়া যেতে পারে।

৫. মধু: চিনির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করা ভালো, এটি লিভারের জন্য উপকারী এবং দ্রুত শক্তি দেয়।


জন্ডিস হলে যা খাবেন না (বর্জনীয় খাবার)

১. তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার: লিভার যখন দুর্বল থাকে, তখন চর্বি জাতীয় খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরোটা, লুচি, সিংগাড়া বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত তরকারি খাবেন না।

২. প্রসেসড ও ফাস্ট ফুড: পিৎজা, বার্গার, চিপস বা টিনজাত খাবারে প্রচুর প্রিজারভেটিভ এবং সোডিয়াম থাকে, যা লিভারের ফোলা বাড়িয়ে দিতে পারে।

৩. অতিরিক্ত মশলা ও ঝাল: মশলাদার খাবার লিভারের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। তাই রান্নায় ঝাল ও গরম মশলার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

৪. কাঁচা লবণ ও চিনি: অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমিয়ে ফেলে এবং চিনি লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. কফি ও কোল্ড ড্রিঙ্কস: ক্যাফেইন এবং কার্বোনেটেড পানীয় লিভারকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। এই সময় এগুলো পুরোপুরি বর্জন করা শ্রেয়।