আমরা প্রতিদিন দুইবেলা দাঁত মাজি ঠিকই, কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই অজান্তে ভুল পদ্ধতিতে ব্রাশ করি। ভুলভাবে দাঁত মাজলে দাঁতের উপরিভাগের শক্ত স্তর বা ‘এনামেল’ ক্ষয় হয়ে যায় এবং মাড়ি নিচের দিকে নেমে গিয়ে দাঁত শিরশিরানি (Sensitivity) তৈরি করে। কেবল ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেটি সঠিক নিয়মে হওয়া চাই।
নিচে দাঁত মাজার সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত নিয়মগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ব্রাশ ধরার সঠিক কোণ (৪৫ ডিগ্রি নিয়ম)
বেশিরভাগ মানুষ দাঁতের ওপর আড়াআড়িভাবে (Horizontal) জোরে জোরে ব্রাশ ঘষেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। সঠিক নিয়ম হলো দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে ব্রাশটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরতে হবে।
- সঠিক পদ্ধতি: ব্রাশটি বাঁকিয়ে এমনভাবে ধরুন যেন ব্রাশের শলাকাগুলো (Bristles) দাঁত এবং মাড়ির মাঝখানের খাঁজে পৌঁছায়। এরপর ছোট ছোট বৃত্তাকারে (Circular motion) বা ওপর-নিচ করে আলতোভাবে ঘষুন।
২. ভেতরের অংশ পরিষ্কার করা
আমরা সাধারণত দাঁতের সামনের অংশ পরিষ্কার করতেই বেশি ব্যস্ত থাকি, কিন্তু দাঁতের ভেতরের দিক (জিহ্বার দিকের অংশ) অবহেলিত থেকে যায়। অথচ ক্যাভিটি বা পাথরের (Tartar) উপদ্রব ভেতরের দিকেই বেশি হয়।
- সঠিক পদ্ধতি: সামনের দাঁতগুলোর ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে ব্রাশটিকে খাড়াভাবে (Vertical) ধরুন এবং ওপর থেকে নিচে কয়েকবার ব্রাশ করুন।
৩. সময় ও চাপের ভারসাম্য
অনেকে মনে করেন অনেকক্ষণ ধরে বা খুব জোরে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি সাদা হবে। এটি একটি বড় ভুল ধারণা। অতিরিক্ত চাপে দাঁতের এনামেল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- পরামর্শ: দাঁত মাজার আদর্শ সময় হলো ২ মিনিট। পুরো মুখকে চারটি ভাগে ভাগ করে প্রতি ভাগে ৩০ সেকেন্ড সময় দিন। ব্রাশ করার সময় খুব হালকা চাপ প্রয়োগ করুন, যেন ব্রাশের শলাকাগুলো দাঁতের গায়ে আলতোভাবে ঘষা খায়।
৪. জিহ্বা পরিষ্কার রাখা
দাঁত মাজার পর জিহ্বা পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। জিহ্বার খাঁজে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে, যা মুখের দুর্গন্ধ এবং দাঁতের সংক্রমণের প্রধান কারণ।
- কীভাবে করবেন: ব্রাশের পেছনের অংশ বা টাং ক্লিনার দিয়ে জিহ্বা আলতো করে ঘষে পরিষ্কার করুন। এটি মুখের সতেজতা দীর্ঘস্থায়ী করে।
৫. ব্রাশ ও পেস্ট নির্বাচন
সঠিক ব্রাশ নির্বাচন না করলে আপনার সব চেষ্টাই বৃথা যেতে পারে। শক্ত বা হার্ড ব্রাশ দাঁত ও মাড়ির জন্য ক্ষতিকর।
- পরামর্শ: সব সময় সফট (Soft) বা আল্ট্রা-সফট ব্রাশ ব্যবহার করুন। পেস্টের ক্ষেত্রে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট বেছে নিন, যা দাঁতের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। এছাড়া ব্রাশ করার পর ব্রাশটি ভালো করে ধুয়ে খোলা জায়গায় রাখুন যেন শুকিয়ে যায়। প্রতি ৩ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত।
আপনি কি এই ভুলগুলো করছেন?
- খাওয়ার সাথে সাথেই ব্রাশ করা: টক জাতীয় খাবার বা মিষ্টি খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ব্রাশ করা উচিত। খাওয়ার সাথে সাথে দাঁতের এনামেল কিছুটা নরম থাকে, যা ব্রাশের ঘর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- ফ্লসিং না করা: ব্রাশ কেবল দাঁতের বাইরের অংশ পরিষ্কার করে। দুই দাঁতের মাঝখানের ময়লা দূর করতে প্রতিদিন অন্তত একবার ‘ডেন্টাল ফ্লস’ ব্যবহার করুন।
- অনেকদিন এক ব্রাশ ব্যবহার: ব্রাশের শলাকাগুলো যদি বেঁকে যায় বা ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেই ব্রাশ আর ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না।
উপসংহার: সুন্দর হাসি এবং মজবুত দাঁতের জন্য সঠিক নিয়মে ব্রাশ করার কোনো বিকল্প নেই। দিনে দুইবার (সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে) দুই মিনিট করে সঠিক কৌশলে দাঁত মাজুন। আপনার দাঁত ও মাড়ি থাকবে আজীবন সুস্থ ও সবল।
Procive Ultra Tablet: Ideal for controlling PCOS/PCOD and maintaining hormonal balance in women! (1017 views)
Bimore Plus Tablet: An Effective Supplement for Bone and Overall Physical Health! (816 views)
ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট কী? (463 views)
The Best Calcium Supplement for Bone: BIMORE PLUS (349 views)