স্ট্রোকের লক্ষণ ও তাৎক্ষণিক করণীয় কী?

  • Home
  • স্ট্রোকের লক্ষণ ও তাৎক্ষণিক করণীয় কী?

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালী ফেটে গেলে স্ট্রোক হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন পায় না এবং দ্রুত মারা যেতে শুরু করে। তাই স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান।

স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করার সহজ উপায়: BE FAST

চিকিৎসকরা স্ট্রোকের লক্ষণ মনে রাখার জন্য ‘BE FAST’ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। নিচের লক্ষণগুলোর একটি বা একাধিক দেখা দিলে দেরি করা যাবে না:

  • B (Balance): হঠাৎ করে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা মাথা ঘোরা।
  • E (Eyes): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, দ্বিত্ব দৃষ্টি (Double vision) বা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো।
  • F (Face): মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া। রোগীকে হাসতে বললে যদি দেখা যায় মুখের একপাশ ঝুলে আছে বা অসার হয়ে গেছে।
  • A (Arms): এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ অনুভূত হওয়া। রোগীকে দুই হাত ওপরে তুলতে বললে যদি এক হাত নিচে পড়ে যায়।
  • S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অস্পষ্টতা। রোগী কোনো সহজ কথা স্পষ্ট করে বলতে না পারা।
  • T (Time): উপরের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সময় হয়েছে।

স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়

কাউকে স্ট্রোক করতে দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থেকে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

১. দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন: স্ট্রোকের লক্ষণ দেখার সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে (যেখানে সিটি স্ক্যান এবং নিউরোলজি সুবিধা আছে) নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। লক্ষণ কমে গেলেও অবহেলা করবেন না। ২. সময় নোট করুন: ঠিক কখন থেকে লক্ষণগুলো শুরু হয়েছে তা খেয়াল রাখুন। এটি চিকিৎসকদের সঠিক ইনজেকশন বা চিকিৎসা দিতে সাহায্য করবে। ৩. রোগীকে নিরাপদ অবস্থানে রাখুন: রোগীকে একপাশে কাত করে (Recovery Position) শুইয়ে দিন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয় এবং বমি হলে তা শ্বাসনালীতে আটকে যায় না। ৪. কিছু খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন: রোগীকে পানি, খাবার বা কোনো ওষুধ (এমনকি অ্যাসপিরিনও নয়) খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। স্ট্রোকের ফলে গিলে ফেলার পেশি অকেজো হয়ে যেতে পারে, যা শ্বাসরোধের কারণ হতে পারে। ৫. আঁটসাঁট পোশাক ঢিলে করে দিন: কলার, টাই বা বেল্ট জাতীয় কিছু থাকলে তা ঢিলে করে দিন যাতে রক্ত চলাচলে বাধা না পায়।


স্ট্রোক পরবর্তী সতর্কতা ও প্রতিরোধ

স্ট্রোক থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর নিয়মিত চেকআপ এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি:

  • রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস স্ট্রোকের প্রধান কারণ। এগুলো সব সময় নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • ধূমপান বর্জন: ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • সুস্থ খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খান।
  • শারীরিক পরিশ্রম: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন।

মনে রাখবেন: স্ট্রোকের চিকিৎসার জন্য ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা প্রথম ৩-৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা পেলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিকটস্থ বড় হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।